শরীয়তপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি কেবল একটি গতানুগতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি শরীয়তপুর জেলার মানবসম্পদ উন্নয়নের এক আধুনিক সূতিকাগার। এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বাংলাদেশের প্রান্তিক জনপদকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল।
১. প্রেক্ষাপট ও ভিত্তিপ্রস্তর
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন বিশ্বায়নের প্রভাবে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে কারিগরি পারদর্শিতা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, তখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিটি জনপদে দক্ষ কারিগর তৈরির সংকল্প গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) কর্তৃক শরীয়তপুর সদরের মাকসাহার, রুদ্রকর এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। এটি মূলত সরকারের “দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি“ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২. প্রাতিষ্ঠানিক অভিযাত্রা ও লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটি তার সূচনালগ্ন থেকেই প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে প্রয়োগমুখী শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল শরীয়তপুর অঞ্চলের বিপুল জনশক্তিকে পেশাদারিত্বের ছাঁচে ফেলে তাদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।
৩. আর্থ–সামাজিক তাৎপর্য
এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস মূলত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার ইতিহাস। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা দূর করে এটি তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে জেলার অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দক্ষতা যাচাই ও ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে এটি জাতীয় উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে আসছে।
সারসংক্ষেপ: শরীয়তপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি তার স্বল্পকালীন ইতিহাসে কারিগরি স্থবিরতা কাটিয়ে এক গতিশীল কর্মসংস্কৃতি বিনির্মাণে সক্ষম হয়েছে। এটি বর্তমানে এই জনপদের এক অনিবার্য বিদ্যাপীঠ, যা প্রতিনিয়ত মেধা ও মননের সমন্বয়ে দক্ষ কারিগর তৈরি করে চলেছে।